হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, জনগণের প্রতি আয়াতুল্লাহ আরাফির আহ্বানের পাঠ নিম্নরূপ:
بسم الله الرحمن الرحیم
ولاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِینَ قُتِلُواْ فِی سَبِیلِ اللّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْیَاء عِندَ رَبِّهِمْ یُرْزَقُونَ
-(পবিত্র কুরআন)
দীর্ঘ বছর ধরে নিরলস সংগ্রাম ও সত্যের পথে প্রশংসনীয় দৃঢ়তার পর, ঝড়-ঝঞ্ঝার মধ্যেও ইসলামী বিপ্লবের হালধর নেতার শাহাদাত ইসলামী উম্মাহ ও ইরানের সম্মানিত জনগণের জন্য এক বিরাট ক্ষতি এবং এটি মুমিনদের হৃদয়কে গভীর শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন করেছে।
নিঃসন্দেহে, বিপ্লবের মহান শহীদ নেতা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ইসলামী বিপ্লবের আদর্শের পথে অটল ছিলেন এবং জনগণ ও ইসলামী ইরানের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। আজ তাঁর পবিত্র মরদেহের শোকযাত্রার আয়োজনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের কর্তব্য হলো এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মহিমান্বিত উপস্থিতির মাধ্যমে জনগণের হৃদয়ে তাঁর অবস্থানকে তুলে ধরা।
সারা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি তাদের প্রিয় ও শহীদ ইমামের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শোকের দিনগুলোতে আরও সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আশা করা যায়, এই উপস্থিতি আশুরার আদর্শে অনুপ্রাণিত এক আন্দোলনের সূচনা করবে, যা প্রিয় নেতা ও শহীদের মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
আমি দেশের সকল শ্রেণির মানুষ, ইমাম খোমেনি ও খামেনেই-এর আদর্শের অনুসারী এবং এই মহান শোকের দুঃখভার বহনকারী সবাইকে আহ্বান জানাই যে, তারা ব্যাপকভাবে এই মহৎ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দেশের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করুন।
আলিরেজা আরাফি
ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পরিচালক
বিদায় ও শোকযাত্রার কর্মসূচি
• শনিবার ১৩ তীর ১৪০৫ ও রবিবার ১৪ তীর ১৪০৫ (মহররমের ১৯ ও ২০ তারিখ): তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান।
• সোমবার ১৫ তীর ১৪০৫ (মহররমের ২১ তারিখ): তেহরানে শোকযাত্রা।
• মঙ্গলবার ১৬ তীর ১৪০৫ (মহররমের ২২ তারিখ): পবিত্র শহর কুমে শোকযাত্রা।
• বুধবার ১৭ তীর ১৪০৫ (মহররমের ২৩ তারিখ): ইরাকে শোকযাত্রা।
• বৃহস্পতিবার ১৮ তীর ১৪০৫ (মহররমের ২৪ তারিখ এবং ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর শাহাদাতের রজনী): মাশহাদে শোকযাত্রা এবং ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে দাফন।
আয়াতুল্লাহ আরাফির নির্দেশ
আয়াতুল্লাহ আরাফি ২৫ খোরদাদ ১৪০৫ তারিখে জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন হাওজা প্রতিষ্ঠান, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর উদ্দেশে “শহীদ ইমামের শোকযাত্রা বিষয়ক হাওজা সদর দপ্তর” গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি শোকযাত্রা সুষ্ঠু ও ব্যাপকভাবে সম্পন্ন করার জন্য ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সব সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
তিনি আরও নির্দেশ দেন যে, দেশের ভেতরে ও বাইরে এই সদর দপ্তরের দায়িত্ব হবে শোকযাত্রা অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে শহীদের চল্লিশা পর্যন্ত সকল মানবসম্পদ ও সামর্থ্যকে সক্রিয় করা। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দায়িত্ব অন্যান্য সব কাজের তুলনায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
আপনার কমেন্ট